প্রকাশিত:
২৬ নভেম্বর, ২০২৫

ড্রিসকলের আগ্রহ ছিল সেনাবাহিনীর বাজেট, রসদ এবং জনবলসংক্রান্ত কাজগুলোতে, তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তার অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত। তার পূর্ববর্তী কর্মজীবনে রাশিয়া বা ইউক্রেন সম্পর্কিত কোনো কাজও ছিল না। এমনকি সরকারি পদে তার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাও ছিল না। তবে, ট্রাম্প প্রশাসনে তার উত্থান অনেকটাই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ফলস্বরূপ।
ড্রিসকলের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর, ড্রিসকল ভ্যান্সের সাথে পরিচিত হন এবং শীঘ্রই তারা একে অপরের মেন্টর হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালে ভ্যান্স ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দেওয়ার পর, ড্রিসকলও তার সাথে যুক্ত হন এবং তার সহকর্মী হিসেবে প্রচারণায় অংশ নেন। পরবর্তীতে, ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর ড্রিসকলকে আর্মি সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত সপ্তাহে মার্কিন-রাশিয়া শান্তি পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পর, ড্রিসকল ইউক্রেনে এক অঘোষিত সফর করেন। এটি ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে শীর্ষ মার্কিন সামরিক প্রতিনিধিদল, যেটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর কিয়েভে পৌঁছেছিল। সফরের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সাথে আরও আলোচনায় অংশ নেন।
এছাড়াও, ড্রিসকল জেনেভায় ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সাথে আরও আলোচনা করেন, যেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই একটি 'হালনাগাদকৃত শান্তি কাঠামো' তৈরি করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
ড্রিসকলের সাম্প্রতিক উত্থান এবং তার ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিভিন্ন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি শীঘ্রই মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, বা তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। যদিও তিনি আগে কখনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন না, তবে ২০২০ সালে তিনি নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস) আসনে দাঁড়িয়ে পরাজিত হন।
অন্যদিকে, ড্রিসকল মার্কিন সেনাবাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখেন এবং ভবিষ্যতে সেনাদের জন্য ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে তিনি সবসময় বক্তব্য রেখেছেন।
ড্রিসকলের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে আগামী দিনে প্রতিটি সেনাকে ড্রোন বহন করতে হবে এবং সেনাদের আরও বেশি নির্ভর করতে হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর। তিনি অক্টোবরে এক বক্তৃতায় বলেন, পরিবর্তনের সময় এখনই। আর আমরা জয়ী হব সিলিকন ও সফটওয়্যার দিয়ে—আমাদের সেনাদের রক্ত বা শরীর দিয়ে নয়।
এদিকে, ট্রাম্প তার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে ড্রিসকলকে ইউক্রেনীয় পক্ষের সাথে আরও বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথেও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
ড্রিসকলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। যদি বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পদত্যাগ করেন, তাহলে ড্রিসকল কি তার জায়গা নিতে পারেন? এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে, ড্রিসকল ইউক্রেন বিষয়ক শান্তি প্রচেষ্টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের দূত হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।
এখন দেখার বিষয়, ড্রিসকল তার এই উত্থানকে কীভাবে কাজে লাগান এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে ভবিষ্যতে কি ভূমিকা পালন করবেন।
ড্রিসকলের উত্থান মার্কিন প্রশাসনের একটি চমকপ্রদ ঘটনা। একদিকে, তিনি আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি তার আগ্রহ এবং সেনাবাহিনী পুনর্গঠনের লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতে চাচ্ছেন, অন্যদিকে তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছেন। তার ভূমিকা আগামী দিনগুলিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যদি তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদে আসীন হন বা ইউক্রেন সম্পর্কিত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পান।